Logo
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪২ PM || প্রকাশের তারিখঃ ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৬ AM

দীর্ঘ বছর যাবত নানা প্রতিকূলতার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে খুলনা বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমুহের কতৃপক্ষ.... নতুন সরকারের অধীনে দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের

News Image


আব্দুল কাইয়ুম খান 

দীর্ঘ বছর যাবত নানা প্রতিকূলতার মধ্যে খুলনা বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সমুহের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে কতৃপক্ষ।  বিভাগের অধিকাংশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে জরাজীর্ণ কমপ্লেক্স ভবন, চিকিৎসক ,৩য় ,৪র্থ শ্রেণীর জনবল চরম সংকট, চিকিৎসকদের ডরমেটরির বেহাল দশা । উপকূলীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সমুহের সার্বিক  ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা আরো জটিল। নতুন সরকারের অধীনে দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের । সরেজমিনে দেখা যায় বাগেরহাট জেলার উপকূলীয় উপজেলা শরনখোলায় মিষ্টি পানির তীব্র সংকট ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে চলছে প্রায় ২ লাখ  জনগোষ্ঠীর শরনখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা।   ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে  প্রতিদিন গড়ে ৬০ জনের উপরে রোগী ভর্তি থাকে। এছাড়া বহি:র্বিভাগে গড়ে প্রতিদিন ৪শ জনের উপরে রোগী আসে । রোগীদের সাথে স্বজনেরা থাকে। ফলে হাসপাতালটিতে কর্মকর্তা কর্মচারী সহ আন্ত : বিভাগ ও বহি: বিভাগে  রোগী ও সাথে আসা স্বজনরা সব মিলিয়ে ১৫শ- ১৬ শ লোকের সমাগম  প্রতিদিনই থাকে ক্যাম্পাসটিতে। পরিচ্ছন্নতা ও পয়: নিষ্কাশন কর্মী না থাকায়  ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এছাড়া হাসপাতাল ভবনটিও জরাজীর্ণ, বিভিন্ন জায়গা থেকে পলেস্তারা প্রতিনিয়ত খুলে খুলে পড়ছে। চিকিৎসকদের ডরমেটরির অবস্থা খুবই খারাপ। সেখানেও ছাদ থেকে পলেস্তর খুলে পড়ছে । দৈনন্দিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত একমাত্র মিষ্টি পানির উৎস হাসপাতালের ভিতরের পুকুরটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়ায় গরমের সময় পুকুরটিতে পানি থাকে না । ফলে তীব্র লবণাক্ত পানি দিয়ে দৈনন্দিন সকল কাজ সারতে হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে এক কঠিন প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে চলছে হাসপাতালটির সেবা
 কার্যক্রম । বর্ষাকালে হাসপাতালের প্রায় ৭০% জায়গায় তৈরি হয় জলবদ্ধতা ।  ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়ায় দীর্ঘদিনের এই সমস্যাটি এখনো সমাধান হয়নি। সার্বিক বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প,প কর্মকর্তা ডাঃ প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালটির অবকাঠামগত সমস্যা , ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর জনবলের সংকট, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, মিষ্টি পানির উৎসের সমস্যা গুলো দীর্ঘদিনের । আমি বিভিন্ন ফোরামে 
দীর্ঘদিন যাবত  বলে আসছি এবং যোগদানের পর থেকেই  সার্বিক বিষয়ে লিখালিখি করে আসছি । এখনো পর্যন্ত সমস্যার তেমন কোন সমাধান মেলেনি। প্রায় একই    চিত্র উপকূলীয় উপজেলা রামপাল ,কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। উপকূলীয় উপজেলা রামপালের স্বাস্থ্য ও প, প,কর্মকর্তা ডাঃ সুকান্ত বলেন প্রায় ২ লাখ জনসংখ্যার উপজেলায়, ৫০ শয্যর হাসপাতালে  প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ জন রোগী ভর্তি থাকে। জরুরি বিভাগ ও বহি:র্বিভাগে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসে আরো ৪শ থেকে ৫শ জন । একই সাথে রোগীর স্বজনরা থাকে। সব মিলিয়ে ১৫শ থেকে ১৬ শ লোক প্রতিদিন হাসপাতাল কম্পাউন্ডে আসে । চিকিৎসক  সংকটতো রয়েছে পাশাপাশি ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর জনবল সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা পয়: নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে । এছাড়া  চিকিৎসকদের ডরমেটরি সংকটের কারণে রুম শেয়ারিং করে চিকিৎসকরা বসবাস করছে । ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ও নার্সদের ডরমেটরির কোনো  ব্যবস্থা নাই । আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সমস্যাগুলো নিয়মিত জানিয়ে আসছি । তিনি আরো বলেন বর্তমানে আরেকটি সমস্যা এখানে যোগ হয়েছে । সারাদেশে চলমান লোডশেডিং এর কারণে আমার হাসপাতালে ও এর প্রভাব পড়েছে । আই পি এস নাই , জেনারেটর থাকলেও তেলের কোন ব্যবস্থা নাই । ফলে ওয়ার্ডে রোগীদের যেমন গরমে  কষ্ট হচ্ছে একইভাবে চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাই গরমে কষ্ট করে দায়িত্ব পালন করছে ।  এমন পরিস্থিতিতে বড় সমস্যা হচ্ছে প্যাথলজিতে ‌। বিদ্যুৎ না থাকলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা গুলোর রিপোর্ট সময়মতো দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে সেবা প্রত্যাশীদের ভোগান্তি বাড়ছে। একই চিত্র পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে । পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প,প, কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে  আহমেদ বলেন  পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ৭০-৮০ জন রোগী ভর্তি থাকে । জরুরী বিভাগ,আন্ত:বিভাগ ও বহির্বিভাগে গড়ে ৫শ জন রোগী প্রতিদিন স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসে । সাথে রোগীর স্বজনেরা থাকে। কর্মকর্তা কর্মচারীরা সব মিলিয়ে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে প্রায় ২ হাজার লোকের প্রতিদিন সমাগম থাকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সহ ৩য় ৪র্থ শ্রেণীর জনবলের চরম সংকট রয়েছে । পয়: নিষ্কাশন ব্যবস্থা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে প্রতিদিন হিমশিম খেতে হয় । এছাড়া বর্তমান চলমান লোডশেডিংয়ে প্রচন্ড ভোগান্তিতে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করতে হচ্ছে । এতে সেবা প্রত্যাশী রোগী ও কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা কর্মচারী সবাই তীব্র গরমের অস্বস্তি ভোগ করছে । 
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আইপিএস নাই। নামমাত্র ১ টি জেনারেটর আছে । যার মাধ্যমে শুধুমাত্র ওটি রুমের কার্যক্রম  চালানো যায়। চিকিৎসকদের ডরমেটরি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। এছাড়া হাসপাতাল ভবনের ছাদ থেকে পানি ভেতরে প্রবেশ করে ।  বিভিন্ন জায়গা থেকে পলেস্তারা খুলে খুলে পড়ছে । দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। প্রায় একই চিত্র  উপকূলীয় উপজেলা কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের । কয়রা  উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রেজাউল করীম জানান ২০ শয্যার ভবনে চলছে ৫০ শয্যার সেবা কার্যক্রম। ৩০ শয্যার ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে ৩ বছর আগে । চিকিৎসক সংকট রয়েছে ।৩য় ও ৪র্থ চতুর্থ শ্রেণীর জনবলের ও রয়েছে চরম সংকট। চিকিৎসকদের ডরমেটরির থাকার উপযোগিতা না থাকলেও কোনরকম  ঝুঁকি নিয়েই জরাজীর্ণ ডরমেটরিতে রুম শেয়ারিং করে চিকিৎসকরা থাকছেন । পরিবার-পরিজন দূরে রেখে উপকূলীয় উপজেলাতে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসকরা। উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত  স্থানীয়রা জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সমূহ থেকে জেলা সদর হাসপাতালের দুরত্ব প্রায় ৩০- ৫০ কি: মি এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দূরত্ব ৮০-১০০ কি :মি । ফলে নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা উপকূলীয় অঞ্চল সমূহে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সমূহের অবকাঠামোগত উন্নয়ন , চিকিৎসক ও 
 প্রয়োজনীয় জনবলের  পরিপূর্ণ ব্যবস্থা , ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে  স্বাস্থ্যসেবার  প্রতিবন্ধকতা দূর করা । খোজ নিয়ে জানা যায়, জরাজীর্ণ উপজেলা স্বাস্থ্য 
কমপ্লেক্স ভবন ,চিকিৎসক  সংকট,৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর জনবলের চরম সংকট এমন চিত্র খুলনা বিভাগ জুড়েই । 
সার্বিক বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ - পরিচালক ডা: মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন বিষয়গুলো আমি অবগত আছি। খুলনা বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সমূহের সমস্যা গুলো নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে । সরকার নতুন করে সারাদেশে স্বাস্থ্য খাতে ১ লক্ষ জনবল নিয়োগ করবে। আশা করছি জনবল নিয়োগ হলে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর জনবলের সংকট কেটে যাবে। এছাড়া নতুন সরকারের অধীনে জরজীর্ণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন ও চিকিৎসক, নার্স ,৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা কর্মচারীদের ডরমেটরি পর্যায়ক্রমে নির্মান ও সংস্কার  করা হবে । এছাড়া বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে এইচ ই ডি সাথে কথা বলে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য আলোচনা চলছে ।